কিভাবে একজন চাকরিজীবী তার আয়কর হিসেব করবেন?

/, Income Tax, Tax Filing/কিভাবে একজন চাকরিজীবী তার আয়কর হিসেব করবেন?

কিভাবে একজন চাকরিজীবী তার আয়কর হিসেব করবেন?

কিভাবে একজন চাকরিজীবী তার আয়কর হিসেব করবেন?

আপনি কি চাকরিজীবী? আপনার বেতন কি করযোগ্য? প্রতি মাসে কি উৎসে কর কর্তন করার পর আপনি বেতন পান?

কিন্তু আপনি জানেন কি আপনার গত অর্থ বছরে মোট করযোগ্য আয় কত ছিল?

এই করযোগ্য আয়ের উপর আপনি কত রেয়াত পাবেন? এবং শেষপর্যন্ত আপনাকে আর কত টাকা আয়কর দিতে হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-কে?

অনেকেই মনে করেন আয়কর বিষয়টা অনেক কঠিন।কিন্তু কিছু কিছু বিষয় ততোটা কঠিন না। আপনি আস্থা রাখতে পারেন। আপনি যদি মাত্র দশ মিনিট সময় ধৈর্য নিয়ে এই লেখাটি পড়েন তাহলে গত বছরে আপনার আয়কর কত হবে তা নিজেই বের করতে পারবেন। আর এ ক্ষেত্রে bdtax.com.bd তো আপনার পাশে আছেই।

তাহলে চলুন অল্প কথায় ধাপে ধাপে হিসেব করা শুরু করি। আমরা কিছু কাল্পনিক তথ্য নিয়ে কাজ করবো। আপনি সেই সব স্থানে আপনার নিজের তথ্য বসিয়ে হিসেব করতে পারবেন। এখানে আমরা কিছুটা বড় অংক নিয়ে হিসেব করবো যাতে করে মোটামোটি সব হিসেব করতে সুবিধা হয়।

মোট করযোগ্য আয় কত?

মি: করিম একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি নিচের সুবিধাগুলো পেয়ে থাকেন তার কোম্পানি থেকেঃ

১। মূল বেতন মাসিক ৮০,০০০ টাকা।

২। বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫০% অর্থাৎ ৪০,০০০ টাকা (মাসিক)।

৩। যাতায়াত ভাতা মাসিক ৫,০০০ টাকা।

৪। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫,০০০ টাকা।

৫। প্রভিডেন্ট ফান্ডে মূল বেতনের ১০% মি করিম এবং তার কোম্পানি দিয়ে থাকেন।

৬। উৎসব ভাতা মাসিক মূল বেতনের সমান দুইটা।

জেনে গেলাম তিনি চাকরি করে সারা বছর ধরে কি পরিমান আয় করেন।

এবার চলুন ধাপে ধাপে তার করযোগ্য আয় হিসেব করা শুরু করি।

মূল বেতন

মূল বেতন সম্পূর্ণটাই করযোগ্য আয়। আপনি যতোই মূল বেতন পান না কেনো তার সবটুকুই আপনার করযোগ্য আয়ের সাথে যোগ হবে।

তাহলে মাসিক ভিত্তিতে বারো মাসে মোট ৯৬০,০০০ টাকা মোট আয়ের সাথে যোগ হবে।

বাড়ি ভাড়া ভাতা

নগদ বাড়ি ভাড়া ভাতার ক্ষেত্রে মূল বেতনের ৫০% অথবা মাসিক ২৫,০০০ টাকা, এই দুইটা অংকের মধ্যে যেটা ছোট হবে সেই অংকটা বাদ যাবে।

যেহেতু করিম বাড়ি ভাড়া ভাতা পাচ্ছেন ৪০,০০০ টাকা সেটা থেকে ২৫,০০০ টাকা বাদ দিয়ে থাকবে মাসিক ১৫,০০০ টাকা।

এই টাকা তার মোট করযোগ্য আয়ের সাথে যোগ হবে। তাহলে বারো মাসে মোট বাড়ি ভাড়া ভাতা থেকে যোগ হবে ১৮০,০০০ টাকা।

কিছু ক্ষেত্রে চাকরিজীবী কম্পানি থেকে বিনামূল্যে থাকার জন্য বাড়ি পেয়ে থাকেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত বাড়ি ভাড়া যা তার থেকে কিছু কমে বাড়ি পেয়ে থাকেন।

এই দুইটা ক্ষেত্রেই ভিন্নভাবে হিসেব করতে হয়। যেহেতু এই দুই শ্রেণির করদাতার সংখ্যা খুবই কম তাই এখানে এই বিষয়ে আলোচনা করা হলো না।

যাতায়াত ভাতা

যাতায়াত ভাতা নগদ পেলে বাৎসরিক ৩০,০০০ টাকা বাদ দিয়ে যা থাকবে তা তার মোট আয়ের সাথে যোগ হবে।

এখানে করিম যেহেতু মাসিক ৫,০০০ টাকা করে পাচ্ছেন তাই তার বাৎসরিক মোট ভাতার পরিমান হলো ৬০,০০০ টাকা।

তাহলে ৬০,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা বাদ দিয়ে বাকি ৩০,০০০ টাকা মোট আয়ের সাথে যোগ হবে।

যারা উচ্চ পদে চাকরি করেন তারা কম্পানি থেকে সার্বক্ষণিক গাড়ি পেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রেও হিসেব আলাদা। যেহেতু তাদের সংখ্যা খুবই কম তাই এখানেও এই বিষয়টা আলোচনা করা হলো না।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কম্পানি তার নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন। সেক্ষেত্রে কোন টাকা যোগ হবে না।

চিকিৎসা ভাতা

মূল বেতনের ১০% অথবা প্রকৃত খরচ, এই দুইটা অংকের মধ্যে যেটা ছোট হবে সেটা তার চিকিৎসা ভাতা থেকে বাদ গিয়ে বাকিটা মোট আয়ের সাথে যোগ হবে।

মি করিম চিকিৎসা ভাতা হিসেবে মাসিক ৫,০০০ টাকা পাচ্ছেন। তার মাসিক মূল বেতনের ১০% হলো ৮,০০০ টাকা যা ৫,০০০ টাকা থেকে কম। তাই এই খাতে কোন টাকা তার মোট আয়ের সাথে যোগ হবে না।

প্রভিডেন্ট ফান্ড

কম্পানি থেকে যে অংশটা পাবেন সেটা সবটাই তার মোট আয়ের সাথে যোগ হবে।

তাহলে তার মূল বেতনের ১০% অর্থাৎ ৮,০০০ টাকা করে বছরে ৯৬,০০০ টাকা তার মোট আয়ের সাথে যোগ হবে।

উৎসব ভাতা

উৎসব ভাতা সম্পূর্ণ অংশই মোট আয়ের সাথে যোগ হয়।

যেহেতু মি করিম দুইটা মাসিক মূল বেতনের সমান উৎসব ভাতা পান তাই সম্পূর্ণটাই অর্থাৎ ১৬০,০০০ টাকা পুরোটাই তার মোট আয়ের সাথে যোগ হবে।

আমাদের ধাপে ধাপে তার কোন খাতে কতো মোট আয়ের সাথে যোগ হবে তা পেয়ে গেছি।

ক্রমিক নম্বর (ক্র. নং.) ০১ থেকে ০৬ পর্যন্ত গণনা করা করযোগ্য আয়গুলো যোগ করলে তার মোট আয়ের পরিমান দাড়াবেঃ

ক্র. নং. আয়ের উৎস আয়ের পরিমান
 ১ মূল বেতন ৯৬০,০০০
বাড়ি ভাড়া ভাতা ১৮০,০০০
যাতায়াত ভাতা ৩০,০০০
চিকিৎসা ভাতা
প্রভিডেন্ট ফান্ড ৯৬,০০০
উৎসব ভাতা ১৬০,০০০

                মোট করযোগ্য আয়

১৪,২৬,০০০

এই টাকার উপর তাকে আয়কর দিতে হবে।

বাংলাদেশে যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে থাকেন তাদের বেতন থেকে উপরে উল্লেখিত খাত থেকেই মোটামোটি সবাই টাকা পেয়ে থাকেন।

এর বাইরে খুব কম খাতেই বেতন থেকে টাকা পেয়ে থাকেন।

তবে যদি কেউ অন্য খাত থেকে টাকা পান তারা আয়কর সম্পর্কে যারা ভালো জানেন তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে করযোগ্য আয় হিসেব করতে পারেন।

মোট কতো টাকা আয়কর দিতে হবে?

ধরে নিলাম তিনি ২৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়কর ছাড় পাবেন।

তাহলে মোট করযোগ্য আয় ১৪,২৬,০০০ টাকার উপর মি করিমের আয়করের পরিমান হবেঃ

করযোগ্য আয় কর হার করের পরিমান
প্রথম ২৫০,০০০ টাকা ০%
পরবর্তি ৪,০০,০০০ টাকা ১০% ৪০,০০০
পরবর্তি ৫,০০,০০০ টাকা ১৫% ৭৫,০০০
অবশিষ্ট ২,৭৬,০০০ টাকা ২০% ৫৫,২০০
মোট আয়কর ১৭০,২০০

মোট করের পরিমান দেখে ভয় পেয়ে গেছেন!

কিন্তু মি করিম সঠিকভাবে ট্যাক্স প্যানিং করে এই আয়করের পরিমান অনেক কমিয়ে আনতে পারেন। কিন্তু তার জন্য তাকে সঠিক খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকর্তৃক উল্লেখিত খাতে বিনিয়োগ করে তার উপর আয়কর রেয়াত দাবি করতে পারেন।

কত বিনিয়োগ সুবিধা পাবেন?

তিনটি অংকের কথা বলা হয়েছে।

এই তিনটি অংকের মধ্যে যেটা কম সেটাই তিনি বিনিয়োগ হিসেবে দেখাতে পারবেন।

তবে যতোই বিনিয়োগ করুন না কেনো তার মোট করযোগ্য আয়ের ২৫% এর বেশি তিনি বিনিয়োগ সুবিধা পাবেন না।

তাই আমরা এখানে ধরে নিলাম তিনি তার মোট আয়ের অর্থাৎ ১৪,২৬,০০০ টাকার ২৫% বিনিয়োগ সুবিধাই পাবেন।তাহলে তার মোট বিনিয়োগের পরিমান হবে ৩৫৬,৫০০।

এই টাকার উপর মি করিম জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হারে আয়কর রেয়াত পাবেন।

কত আয়কর রেয়াত পাবেন?

নিচের তিনটি হারে বিনিয়োগকৃত টাকার উপর মি করিম আয়কর রেয়াত পাবেন।

১। প্রথম ২৫০,০০০ টাকার উপর ১৫%।

২। পরবর্তি ২০০,০০০ টাকার উপর ১২% এবং

৩। অবশিষ্ট বিনিয়োগের উপর ১০%।

উপরে বর্ণীত হারে মোট ৩৫৬,৫০০ টাকার উপর আয়কর রেয়াত হিসেব করতে হবে। তিনি মোট কতো টাকা আয়কর রেয়াত পাবেন চলুন তা নিচে থেকে জেনে নেই।

বিনিয়োগকৃত টাকা রেয়াতের হার রেয়াতের পরিমান
প্রথম         ২৫০,০০০ ১৫% ৩৭,৫০০
অবশিষ্ট    ১০৬,৫০০ ১২% ১২,৭৮০
মোট রেয়াত ৫০,২৮০

এর বাইরে মি করিম বেতন পাওয়ার সময় কিছু টাকা কেটে রেখে তার ব্যাংক হিসেবে পাঠানো হয়েছিলো যেটা উৎসে কর হিসেবে পরিচিত।

ধরে নিলাম সেটা মাসিক ৫,০০০ টাকা।

যেহেতু  তিনি মাসে ৫,০০০ টাকা ইতোমধ্যেই দিয়ে দিয়েছেন তাই তার মোট আয়কর থেকে বারো মাসে ৬০,০০০ তাকা বাদ যাবে।

 পরিশেষে কত আয়কর দিতে হবে?

তার মোট আয়করের পরিমান হলো ১৭০,২০০ টাকা।

এই টাকা থেকে বাদ যাবে উৎসে কর অর্থাৎ ৬০,০০০ টাকা এবং আয়কর রেয়াত ৫০,২৮০ টাকা।মোট ১১০,২৮০ টাকা বাদ দিয়ে তাকে আয়কর হিসেবে দিতে হবে ৫৯,৯২০ টাকা।

এই টাকা তিনি চালান/পে অর্ডার এর মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন।

আপনার কাছে তারপরও জটিল মনে হচ্ছে। চিন্তার কিছু নেই। bdtax.com.bd-তে লগইন করে খুব সহজেই আপনি উপরের পুরো কাজটি করে নিতে পারেন।

জসীম উদ্দিন রাসেল
Facebook

 

By | 2017-09-18T01:39:42+00:00 September 17th, 2017|Employee, Income Tax, Tax Filing|1 Comment

About the Author:

One Comment

  1. reazul hashem October 11, 2017 at 3:00 pm - Reply

    ধন্যবাদ জানাচ্ছি অসাধারন একটি পোর্টাল এর জন্য।
    আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের যাদের বেতন এ কোন ধরনের Breakdown দেয়া নেই তাদের আয়কর কিভাবে হিসাব করবেন? যেমন আমার পুরাতন কোম্পানিতে আমার বেতন কয়েকটি ভাগে ভাগ ছিল;
    । মূল বেতন
    । বাড়ী ভাড়া
    । মেডিক্যাল
    । অন্যান্য
    যেখানে আমার বাড়ি ভাড়া এবং মেডিক্যাল এর খরচের উপর আয়কর দিতে হত না। কিন্তু আমার বর্তমান কোম্পানিতে এ ধরনের কোন প্রকার Breakdown না থাকার ফলে, আমাকে আমার সম্পূর্ন বেতনের উপরে আয়কর দিতে হবে। যা আমার জন্য খুবই সমস্যা কর। এ ব্যাপারে আপনারা কি আমাকে / আমাদের কে কোন ভাবে সহায়তা করতে পারবেন ?
    আমাদের যাদের বেতনের কোন ধরনের Breakdown নেই, তাদের জন্য কি কোন ধরনের নিতিমালা আছে ?
    ধন্যবাদ।

Leave A Comment

*

Shares