প্রতি বছর ১লা জুলাই থেকে নতুন কর বর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া শুরু হয়। অর্থাৎ বিগত ১লা জুলাই থেকে ৩০ শে জুন পর্যন্ত আপনার যা আয় হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করেই রিটার্ন জমা দিতে হবে। যারা নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেন তারা হয়তো ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। কারন, আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিলে শেষ দিকে তাড়াহুড়া করতে হয় না।
যারা চাকরী থেকে অবসর নিয়েছেন বা চাকরী ছেড়ে দিয়েছেন তারা কিভাবে রিটার্ন দাখিল করবেন? এর উত্তর কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।
যেমন, আপনি চাকরী থেকে অবসর নিলে বা চাকরী ছেড়ে দিলে আপনার যদি কর যোগ্য আয় ৩,৭৫,০০০ টাকার বেশি থাকে তাহলে আপনাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
আবার, আপনার বয়স যদি ৬৫ বছরের বেশি হয় তাহলে আপনার করযোগ্য আয় ৪,২৫,০০০ টাকা বা তার বেশি হলে আপনাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
এখন অনেকেরই প্রশ্ন থাকতে পারে আপনি রিটার্নে কোন আয়গুলো দেখাবেন? এবং কিভাবে দেখাবেন?
আপনি যদি এই বছর অবসরে গিয়ে থাকেন তাহলে আপনি চাকরী থেকে হয়তো গ্র্যাচুইটি তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে টাকা পেয়েছেন। এই দুইটি ফান্ড থেকে আপনি চাকরী শেষে যতো টাকাই পেয়ে থাকেন তার পুরুটাই করমুক্ত। অর্থাৎ আপনাকে এর উপর কোন কর দিতে হবে না।
এর বাইরে আপনার অন্যান্য খাত যেমন এফডিয়ার থেকে সুদ, কৃষি আয়, বাড়িভাড়া থেকে আয় বা ব্যবসা থেকে আয় আগে যেভাবে দেখাতেন ঠিক সেভাবেই দেখাবেন।
আগে চাকরী করা অবস্থায় প্রতি মাসে বেতন থেকে উৎসে কর কর্তন করে বাকি টাকা ব্যাংকে ট্রান্সফার করতো। তাই হয়তো বছর শেষে নীট করদায় কম আসতো। কিন্তু এখন যেহেতু আপনার সে রকম কোন আয় নেই তাই করদায় বেশি আসতে পারে।
আবার চাকরী না থাকার কারনে আপনার আয় অনেকটা কমে আসবে। সে দিক দিয়ে আবার আপনার করযোগ্য আয় অনেক কমে যাবে যার ফলে বছর শেষে অনেকটা কম কর আসবে।
চাকরী থেকে অবসরের পরে আপনি হয়তো অন্যান্য অনেক কাজে জড়িত হয়ে যেতে পারেন। সেখান থেকে আপনার আয় হতে পারে। সেখান থেকে আপনাকে টাকা পরিশোধের সময় যদি উৎসে কর কর্তন করে পরিশোধ করে তাহলে বছর শেষ হওয়ার আগে আগেই তাদের কাছ থেকে চালান সংগ্রহ করে নিতে পারেন। এটা আপনার আয় থেকে উৎসে কর কর্তনের প্রমান হিসেবে কাজে দিবে।
জসীম উদ্দিন রাসেল।

Leave A Comment