মহামারির কারনে এ বছর আয়কর দিতে না পারলে পরের বছর দেওয়ার সুযোগ আছে কি?

//মহামারির কারনে এ বছর আয়কর দিতে না পারলে পরের বছর দেওয়ার সুযোগ আছে কি?

মহামারির কারনে এ বছর আয়কর দিতে না পারলে পরের বছর দেওয়ার সুযোগ আছে কি?

২০১৯-২০ আয় বছরের রিটার্ন আগামি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দাখিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি কোন করদাতা এর মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে না পারেন তাহলে সময় চেয়ে উপ-কর কমিশনার বরাবর আবেদন করতে পারেন। উপ-কর কমিশনার সর্বোচ্চ দুই মাস সময় বাড়াতে পারেন।

এরপরও যদি করদাতা রিটার্ন দাখিল করতে না পারেন তাহলে আবার আবেদন করতে পারেন কিন্তু এবার যুগ্ম-কর কমিশনারের অনুমতি নিয়ে উপ-কর কমিশনার আরো দুই মাস সময় বাড়াতে পারেন। এভাবে আপনি মোট চার মাস সময় পাচ্ছেন। এবং এই সময়ের মধ্যে যদি আপনি রিটার্ন দাখিল করতে না পারেন তাহলে বিলম্ব ফি দিয়ে আপনাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো, করোনাভাইরাসের মহামারির কারনে যদি কোন করদাতা রিটার্ন এ বছর দাখিল করতে না পারেন তাহলে পরের বছর পারবেন কিনা?

গত সপ্তাহ থেকে সরকারি অফিসে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অন্যান্য অফিসও স্বাভাবিক হওয়া শুরু হয়েছে। অতএব বুঝা যাচ্ছে ধিরে ধিরে সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। তারপরও সরকার যদি আলাদা করে কোন ঘোষণা না দেয় তাহলে উপরে যে সময় উল্লেখ করেছি সে সময়ের মধ্যেই রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলেই জরিমানা দিয়ে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

তাহলে কত জরিমানা দিতে হবে?

উপযুক্ত কারন ছাড়া যদি কোন করদাতা আয়কর বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হন তাহলে উপ-কর কমিশনার তার গত বছরের নির্ধারিত করের উপর ১০% সুদ ধার্য করতে পারেন। এবং এই সুদের পরিমান এক হাজার টাকার নিচে হবে না। আর রিটার্ন দিতে করদাতা যতোদিন বিলম্ব করেছেন তার জন্য প্রতিদিন পঞ্চাশ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে।

তবে কোন করদাতা যদি আগে করযোগ্য না হয়ে থাকেন তাহলে তার জরিমানা পাঁচ হাজার টাকার বেশি হবে না।  

আর যদি তার আয় করযোগ্য হয়ে থাকে তাহলে তিনি গত বছর যে কর দিয়েছিলেন তার ৫০% অথবা এক হাজার টাকা, এই দুই অংকের মধ্যে যেটা বেশি সেটা তাকে জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।

বর্তমানে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ফর্ম আগের চেয়ে অনেক সংক্ষিপ্ত এবং সহজ করা হচ্ছে যাতে করে করদাতার কাছে জটিল মনে না হয়।  জটিলতা ছাড়াই যেন করদাতা তার রিটার্ন দাখিল করতে পারেন সেই চিন্তা মাথায় রেখেই সরকার প্রতি বছর আয়কর ফর্ম আগের থেকে সহজতর করা হচ্ছে। 

এর বাইরে এখন তথ্য প্রযুক্তির যুগে অনলাইনেও আপনি খুব সহজেই আপনার রিটার্ন তৈরি করতে পারেন। পরে সেটা প্রিন্ট দিয়ে নিজে জমা দিতে পারেন অথবা অনলাইনেই জমা দিতে পারবেন।

এজন্য আপনি সাহায্য নিতে পারেন bdtax.com.bd ওয়েবসাইট-এর। এখানে আপনি লগইন করে খুব সহজে নিজেই নিজের রিটার্ন পূরণ করতে পারেন। এবছর bdtax.com.bd থেকে আপনি প্রিমিয়াম সুবিধা নিতে পারবেন। আপনি যদি করোনাভাইরাসের কারনে নিজে সার্কেল বা মেলায় গিয়ে রিটার্ন দাখিল করতে আগ্রহী না হন তাহলে bdtax.com.bd আপনার রিটার্ন দাখিল করে দিবে। এজন্য তাদের রয়েছে একটি দক্ষ টিম যারা আপনার কাছ থেকে রিটার্ন এবং দরকারি কাগজপত্র সংগ্রহ করে আপনার নির্দিষ্ট সার্কেলে রিটার্ন জমা দিয়ে দেবে। এবং আপনি ঘরে বসেই রিটার্ন প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পেয়ে যাবেন।

তবে আপনি যেভাবেই আপনার রিটার্ন পূরণ করেন না কেন, আপনাকে নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করার ব্যাপারে আন্তরিক থাকতে হবে। এতে করে যেমন দেশের আইন মানা হবে অন্য দিকে জরিমানার হাত থেকে বাঁচা যাবে।

জসীম উদ্দিন রাসেল 

By | 2020-08-19T13:16:16+00:00 August 19th, 2020|Tax Filing|0 Comments

About the Author:

Leave A Comment

*

Shares
error: Content is protected !!