আয়ের উপর কর গণনা সঠিক হল কিনা কিভাবে বুঝব?

//আয়ের উপর কর গণনা সঠিক হল কিনা কিভাবে বুঝব?

আয়ের উপর কর গণনা সঠিক হল কিনা কিভাবে বুঝব?

গত ১লা জুলাই থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিল শুরু হয়েছে। ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া রিটার্ন দাখিল করা যাবে। আর এবার যেহেতু আয়কর মেলা হচ্ছে না তাই আপনার নির্ধারিত ট্যাক্স সার্কেল-এ অথবা bdtax.com.bd এর মাধ্যমে অনলাইনেই আপনি আপনার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।   

কিন্তু আয়কর রিটার্ন দাখিল করার আগে আপনাকে আপনার করযোগ্য আয়ের উপর কর ধাপ অনুযায়ী কর হার ব্যবহার করে করদায় গণনা করতে হবে।

আমরা যে আয় করে থাকি তার উপর কিন্তু কর দেই না। আমরা কর দিয়ে থাকি করযোগ্য আয়ের উপর। যেমন, আপনি যদি চাকরি করেন তাহলে আপনার বেতন খাত থেকে যে আয় হয়েছে বছর জুড়ে সেই আয় থেকে আয়কর আইনে উল্লেখিত অব্যাহতি বিবেচনা করে আপনার করযোগ্য আয় বের করবেন।

তাই প্রথমেই আপনি জেনে নিন কোন কোন ক্ষেত্রে আপনি অব্যাহতি পাবেন। কারন আপনি যদি সঠিকভাবে অব্যাহতি বিবেচনা না করেন তাহলে করযোগ্য আয় গণনা সঠিক হবে না। এবং আপনার কর নির্ণয়ও সঠিক হবে না।

এবার আপনি যখন আয়কর আইন অনুযায়ী সব কিছু বিবেচনা করে করযোগ্য আয় বের করলেন তারপর আপনি করদায় গণনা করুন।

করদায় গণনার আগে আপনাকে আরেকটা কাজ করতে হবে। সেটা হলো, বিনিয়োগ ভাতা এবং কর রেয়াত গণনা। করযোগ্য আয়ের উপর একটা নির্দিষ্ট হার পর্যন্ত বিনিয়োগ ভাতা দাবি করা যায়। কিন্তু আপনার প্রকৃত বিনিয়োগ যদি না থাকে তাহলে আপনি কর রেয়াত দাবি করতে পারবেন না।

কর রেয়াতের সুবিধা হলো, করদায় থেকে কর রেয়াত বাদ যায় এবং এর ফলে অনেকাংশে করদায় হ্রাস পায়। আপনি করযোগ্য আয়ের উপর ভিত্তি করে আপনার বিনিয়োগ ভাতার উপর নির্দিষ্ট হারে কর রেয়াত দাবি করতে পারবেন।

এখানেও আপনি যদি নির্দিষ্ট সীমা এবং হার ব্যবহার করে কর রেয়াত বের করতে না পারেন তাহলে আপনার কর নির্ণয় সঠিক হবে না।

আপনার যখন বিনিয়োগ ভাতা এবং কর রেয়াত গণনা হয়ে গেলো তারপর আপনি এবার কর ধাপ অনুযায়ী কর হার ব্যবহার করে করদায় বের করুন। আপনি হয়তো এর মধ্যেই জেনে গেছেন, একজন পুরুষ করদাতার ক্ষেত্রে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত। অর্থাৎ, আপনি যে উপরে করযোগ্য আয় বের করলেন তা যদি তিন লাখ টাকা অতিক্রম করে তাহলেই কেবল আপনি কর দেওয়ার জন্য যোগ্য হবেন। আর এই করমুক্ত আয়ের সীমা মহিলা করদাতার ক্ষেত্রে সাড়ে তিন লাখ টাকা।

আরেকটা পরিবর্তন এসেছে এবারের বাজেটে সেটা হলো আগে কর হার শুরু হতো ১০% দিয়ে আর এবার তা শুরু হবে ৫% দিয়ে। আপনি নতুন কর ধাপ অনুযায়ী আপনার করদায় গণনা করুন।

আপনার করদায় গণনা হয়ে গেলে এবার আপনি কর রেয়াত বাদ দিন। এবং সেখান থেকে আপনি যদি অগ্রিম কর দিয়ে থাকেন অথবা উৎসে যদি আপনার কাছ থেকে কর কর্তন করা হয়ে থাকে তাহলে তা বাদ দিন। বাদ দেওয়ার পর যা থাকবে তাই হলো আপনার নীট করদায়। এই টাকাটাই আপনাকে রিটার্নের সাথে চালান বা পে অর্ডার করে জমা দিতে হবে।

উপরে যে পদ্ধতি বললাম তা ফলো করে আপনি কর গণনা করতে পারেন। তাবে আপনি জেনে আনন্দিত হবেন, bdtax.com.bd আপনার এই বিশাল কাজ খুব সহজে করার জন্য সফটওয়্যার তৈরি করেছে। আপনি এখানে লগইন করে আপনার আয়ের তথ্যগুলো বসালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব হিসাব করে নেবে। আর তাই আপনার রিটার্ন সহজে ও কম সময়ে করতে চাইলে আজই লগইন করুন।    

জসীম উদ্দিন রাসেল  

By | 2020-09-21T10:08:19+00:00 September 21st, 2020|Income Tax|0 Comments

About the Author:

Leave A Comment

*

Shares
error: Content is protected !!