বাজেট ২০২৬-২৭ এ ব্যক্তি করদাতার আয়কর নির্ণয়ে যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো কর রেয়াতের হারে পরিবর্তন। আগের তুলনায় এখন করদাতা তাঁর প্রকৃত বিনিয়োগের উপর হ্রাসকৃত হারে কর রেয়াত পাবেন। এবং এর ফলে একই পরিমাণ কর রেয়াত সুবিধা পেতে আগের তুলনায় বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে।
যা পরিবর্তন হলো
আগে একজন ব্যক্তি করদাতা তাঁর প্রকৃত বিনিয়োগ বা দানের উপর ১৫% হারে কর রেয়াত পেতেন। কিন্তু ২০২৬-২৭ বাজেটে এই হার হ্রাস করে ১০% করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি আপনার করদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না; বরং এটি আয়কর আইন ২০২৩-এর ষষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী আপনাকে গত বছরের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ বা দান করতে উৎসাহিত করবে। আয় বছরে আপনার মোট আয়ের ওপর নির্ভর করবে কতটা বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।
একটি সহজ উদাহরণ
আয়কর আইনে উল্লিখিত খাতে আপনার যদি ১,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ থেকে থাকে, তবে পূর্বে ১৫% হারে আপনি ১৫,০০০ টাকা কর রেয়াত পেতেন। এই বছর, তার পরিবর্তে আপনি ১০,০০০ টাকা পাবেন। এখন আপনি যদি ১৫,০০০ টাকা কর রেয়াত পেতে চান, তাহলে আপনাকে ১,৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে — যা আগের তুলনায় ৫০% বেশি।
তাহলে আপনি কী করতে পারেন?
বছরের শুরুতেই আপনার বার্ষিক আয়ের একটি হিসাব করুন এবং বছরজুড়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সরিয়ে রেখে বিনিয়োগের পরিকল্পনা শুরু করুন। অনেকেই মনে করেন শেষের দিকে গিয়ে বিনিয়োগ করবেন, কিন্তু তখন পর্যাপ্ত টাকা না থাকার কারণে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ আর করা হয়ে ওঠে না। এতে করে করদাতা সম্পূর্ণ
বিনিয়োগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন, ফলে কর বেড়ে যায়।
তাই প্রতি মাসেই অল্প অল্প করে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করুন এবং সম্পূর্ণ কর রেয়াত সুবিধা ভোগ করুন।
জসীম উদ্দিন রাসেল
লিড ট্যাক্স এডভাইজার, বিডিট্যাক্স

Leave A Comment