গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে করদাতার সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বিভ্রান্তিও। বিশেষ করে যারা প্রথমবার রিটার্ন দাখিল করছেন, তাদের অনেকেই মনে করেন, “আমি তো আয়ই করছি না, তাই ফর্মের সব ঘরে শূন্য বসিয়ে দিলেই তো হয়!”
কিন্তু বিষয়টা কি আসলেই এত সোজা? জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জমা পড়া রিটার্নের একটা বড় অংশই শূন্য। অথচ আশেপাশে তাকালেই বোঝা যায়, এসব করদাতার অনেকেরই জীবনযাত্রার মান, ব্যয় বা সম্পদ কিন্তু শূন্যের কোঠায় নয়। এই ফারাকটাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ।
যারা ‘অদক্ষ হাতে’ রিটার্ন জমা দেন, তাদের জন্য সতর্কবার্তা
আমাদের দেশে একটি কমন দৃশ্য হলো কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে না বুঝে শুধু ‘জিরো’ বসিয়ে রিটার্ন জমা দিয়ে আসা। ভাবছেন, ঝামেলা নাই! কিন্তু আয়কর আইন ২০২৩-এর ৩১২ ধারা কিন্তু কিন্তু উল্টো কথাই বলে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, নিজের প্রকৃত আয়-ব্যয় বা সম্পদের তথ্য গোপন করে শূন্য রিটার্ন জমা দিলে সেটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। শাস্তি হিসেবে ৫ বছর পর্যন্ত জেল, মোটা অঙ্কের জরিমানা, কিংবা দুটোই হতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ার ভুল পরামর্শে কান দেবেন না
ইদানীং ফেসবুকে কিছু পেজ বা গ্রুপে দেখছি, চটকদার ভাষায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বলা হচ্ছে, “আমাদের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন জমা দিন, করযোগ্য আয় শূন্য দেখিয়ে দেব।” ব্যাপারটি শুনতে যেমন মজার, তেমনি বিপজ্জনক। করযোগ্য আয় লুকানো শুধু অনৈতিক নয়, অবৈধও বটে।
মনে রাখবেন, আয়কর আইনের ৩২৭ ধারা অনুযায়ী, আপনার রিটার্ন যদি অডিট বোর্ডে পড়ে, তাহলে কিন্তু এলোপ্যাথিক ডাক্তারের মতো যেকেউ উকিল হয়ে আদালতে দাঁড়াতে পারবেন না। সেখানে শুধু এনবিআর-অনুমোদিত পেশাদাররাই আপনার পক্ষে কথা বলতে পারবেন। তাই যার হাতে রিটার্ন দিচ্ছেন, তিনি আসলে আইন চেনেন কিনা, সেটা যাচাই করা জরুরি।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তাদের সফটওয়্যার অনেক বেশি স্মার্ট। আপনি অনলাইনে মনগড়া তথ্য দিয়ে শূন্য রিটার্ন দাখিল করলেই সিস্টেম তা ধরে ফেলবে। আর ধরা পড়লে ফলাফল কী হবে?
- বকেয়া করের ওপর বসবে বিশাল জরিমানা।
- প্রতিমাসে ২% হারে বাড়তে থাকবে অতিরিক্ত কর।
- এমনকি চরম পর্যায়ে গিয়ে এনবিআর চাইলে আপনার গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।
তবে সমাধান কিন্তু খুব কাছেই
এই জটিলতা এড়ানোর একটাই পথ—সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়া। ভাবছেন, কোথায় পাবেন সেই নির্ভরযোগ্য ও সহজ সমাধান?
বাজারে এখন সাশ্রয়ী মূল্যে পেশাদার সেবা পাওয়া যায়। যেমন বিডিট্যাক্স (BDTax)-এর কথা বলা যায়। তাদের টিম দীর্ঘ দিন ধরে করদাতাদের আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতে সহায়তা করে আসছেন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রেখে, দেশে বা দেশের বাইরে যেখানেই থাকুন, তারা সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।
তাই আজকের বাজারদর, জীবনযাত্রার মান বা আপনার মালিকানাধীন সম্পদের কথা চিন্তা করেও যদি আয় দেখাতে না চান, তাহলে সেটি কিন্তু বড় ধরনের ভুল হবে। একটু পেশাদার পরামর্শ নিয়ে চলুন, সঠিক পথেই রিটার্ন জমা দিন। এতে আইনি ঝামেলা এড়ানো যেমন সম্ভব, তেমনি দেশের উন্নয়নেও আপনার একটা ভূমিকা থাকবে।

Leave A Comment